দায়িত্ব নিতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর নির্দেশনা পাই: হেলেনা জাহাঙ্গীর

আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামে একটি সংগঠনের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে আলোচনায় আসা হেলেনা জাহাঙ্গীর তার নিজের টেলিভিশন চ্যানেলে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সংগঠনের নামের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নাম যুক্ত করে নতুন সহযোগী সংগঠন গঠনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনি সংগঠনটির সভাপতি।

বিভিন্ন সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে হেলেনার তোলা ছবি পোস্ট করে তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের নারী বিষয়ক উপকমিটি থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এসব নিয়ে নিজের আইপি টেলিভিশন চ্যালেন ‘জয়যাত্রা টিভি’তে রোববার ‘প্রসঙ্গ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ অনুষ্ঠানে হেলেনা জাহাঙ্গীর জানান, তিনি এখনও ওই সংগঠনটির দায়িত্ব নেননি। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ম. মোজাম্মেল হক তাকে দায়িত্ব নিতে বলেছেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীর তাকে নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেন, ‘এটি নতুন নয়। আমাকে নিয়ে সবসময় এটি করা হয়। আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’

বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ সম্পর্কে ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩২টি জেলায় অফিস আছে। ৩২ হাজার রেজিস্টার্ড কর্মী নিয়ে এই সংগঠন। এটা তিন থেকে চার বছর আগে তৈরি হয়েছে। এটির গঠনতন্ত্র আমার হাতে এসেছে। আমাকে কেন্দ্রীয় সভাপতি হয়ার কথা বলা হয়েছে। আমি তখন বলেছি আমি বড় নেতা-কর্মীর পারমিশন ছাড়া এটি হতে পারব না। কেননা আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য। আমার নেতা মেহের আফরোজ চুমকি আপু আর বড় নেতা প্রধানমন্ত্রী।’

চাকরিজীবী লীগের সভাপতির পদ নিয়ে হেলেনা বলেন, ‘আমাকে যখন ওনারা প্রোপজ করেন এই সংগঠনের সভাপতি হতে, কারণ ওনারা কোনো লিডার খুঁজে পাচ্ছে না। অনেককেই তারা বলেছিল, তবে আস্থার জায়গা খুঁজে পায়নি। তারা আমার মাঝে এটা পেয়েছিল। মাহাবুব নামে একজন লোক তিন মাস আগে এটা আমাকে অফার করেছিল। উনি এটার প্রতিষ্ঠাতা।’

হেলেনা বলেন, ‘তখন আমি এটা আমার উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীকে বলি। উনি আমাকে বলেছেন, আপনি যদি নাও হন, তাহলে কেউ না কেউ হবে। আপনি দায়িত্ব নেন। তারপরেও আমি বলি নাই যে, আমি দায়িত্ব নিচ্ছি। আমি বলেছি, আপনারা পুরোটা গোছান। জেলা-উপজেলা থেকে সিভি কালেক্ট করার কথা বলি। মন্ত্রীর সাথে কথা বলার পর আমি চুমকি আপুর সাথেও কথা বলব। আমি কাদের ভাই, বিল্পব ভাই, হানিফ ভাইয়ের সাথে কথা বলব। সব প্রিপারেশন রেখেছি। লকডাউন শেষ না হলে ওনারা কথা বলবেন না। আমি ওনাদের বলার পর ওনারা যদি বলেন, দায়িত্ব নাও তখন আমি দায়িত্ব নিব।’

আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে হেলেনা বলেন, ‘এমন আরও অনেক অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান আছে, তবে তাদের বিরুদ্ধে লাগেনি। আমার বিরুদ্ধে লেগেছে, কারণ আমি এটার প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু আমি না। এটার প্রতিষ্ঠাতা মাহাবুব ভাই। উনি ভালো নেতৃত্ব পাচ্ছেন না বলেই আমার কাছে এসেছেন।’

সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ‘এটা যেহেতু আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ তাই এখানে নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অনেকে আছেন। পুলিশ, আর্মি ও ব্যাংকার আছেন। যারা রানিং চাকরি করছেন, তারাও আছেন। এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে, চাকরিতে ছাটাই বা বেতন দেয়া হচ্ছে না- সেই দাবিগুলো আদায় করার জন্য এই সংগঠন।’

নিজে চাকরি করেন জানিয়ে হেলেনা বলেন, ‘আমি নিজে চাকরি করি। আমি জয়যাত্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান, আমি আজমেরি গ্রুপের ডিরেক্টর, আমি জয়ন্ত গার্মেন্টসের ডিরেক্টর। আমি অন্তত ২৫ থেকে ৩০টা পদ নিয়ে আছি। আমি অবশ্যই চাকরিতে যুক্ত। আমার ডিজাইনার শপ আছে। এই জন্য ওনারা আমাকে বলেছে।’

হেলেনা নিজেদের দলের মধ্যে কোন্দল আছে জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের মহিলাদের অনেকে আছে, নাম বলব না, তারা নিজেরা নিজেরা চুলোচুলি করে। কোন্দল করে। কিন্তু এটি আমাদের ঘর। আমাদের ঘরের মধ্যে সবাই এক। সেখানে যদি এত প্রতিহিংসা থাকে, তাহলে আমরা কীভাবে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক?’

হেলানা তার সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে একজন দেখলাম ফেসবুকে লিখেছে তার সাড়ে ৬ লাখ ফলোয়ার। লিখেছে, একদিন হয়ত হেলেনা জাহাঙ্গীর এমপি-মন্ত্রী হবেন। অনেক বড় দায়িত্ব পেতে পারেন। তখন কিন্তু আপনাদের চুলকানি কমবে না, থেকেই যাবে। এগুলো আসলে সত্য। আমাকে নিয়ে সবসময় এমন হয়। মাই টিভি আমাকে নিয়ে নিউজ করেছে। তবে আমি কিন্তু ডিরেক্টর হয়েছি। জয়যাত্রার জন্ম দিয়েছি। আমি সফল একজন নারী উদ্যোক্তা হয়েছি। আমি প্রতিটা সেক্টরে সফল হয়েছি। আমি দায়িত্ব নিলে এটিও বাংলাদেশের ভালো সংগঠন হবে।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছবি তোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৬-২০০৭ এর ওই সময় আমি একটা নারী সংগঠন করতাম। তখন মওদুদ আহমদের ছেলের বিয়ে, সেখানে হোসনে আরা তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ওনাকে সহ ২৫ জনকে দাওয়াত দিয়েছিল। এই ছবিটা ২০০৬ সালের আগে। আমার মনে নেই। সবাই ছবি তুলতেছে, তো আমাকেও নিয়ে গেল। আমি তখন ছবি তুললাম। আমি সহজ-সরলভাবেই ছবিটা পোস্ট করেছি। মনের মধ্যে কিছু থাকলে দিতাম না। আর হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ অন্যান্য যারা, তারা আমার বাসায় ছেলের বিয়েতে এসেছিলেন।’

দর্শকদের উদ্দেশে হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার ফোরটিন জেনারেশন আওয়ামী লীগ করে। আমিও একটাই দল করি। আমরা ব্যবসায়ী দলে ছিলাম। আমার চেয়ার কেউ দেয়নি। আমার চেয়ার আমার পরিশ্রমের চেয়ার। রাখে আল্লাহ মারে কে। আমি ৩০ বছর যাবৎ পরিশ্রম করি। আমার টাকা নাই, কিন্তু মন আছে। আমি ৪২টা সংগঠনের সাথে আছি। তারা জানে আমি চ্যালেঞ্জের সাথে কাজ করি।’

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন

সাস্ক্রাইব করে সঙ্গে থাকুন