আর কবে হবে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি?

আর কবে হবে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি?

শরিফুল আলম চৌধুরী, কুমিল্লা : এক বছর দুই বছর নয়, দীর্ঘ ২৩ বছর নতুন নেতৃত্বের দেখা নেই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগে। ২৫ বছর আগে দুই বছর মেয়াদী দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি হয়েছিল। মেয়াদ শেষের প্রায় ২৩ বছরেও নতুন নেতৃত্ব হাল ধরতে পারেনি জেলা যুবলীগ। এছাড়াও কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের বৈধ কোন কমিটি নেই গত প্রায় ৭ বছর ধরে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও উত্তর জেলার কমিটি হওয়ায় ইঙ্গিত আসলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। তবে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে কুমিল্লা দক্ষিণ ও উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল কয়েক নেতার মনোভাবে ভিন্নতা থাকায় যুবলীগের কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি সিদ্ধান্তহীনতায় ঝুলছে।

সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগে ১০ বছর আগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই কারণে গত প্রায় ১০ মাস আগে কুমিল্লা উত্তর জেলার কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণের কোন কমিটি গঠনে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দলীয় পদ না থাকায় নেতাদের মধ্যেও কোনো কর্মসূচি আয়োজন বা অংশগ্রহণের তাগিদ আর নেই। তাঁরা এখন দ্রুত কমিটি গঠনের দাবি তুলছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সর্বশেষ কমিটির অন্তত তিনজন সদস্য বলেন, ১৯৯৭ সালে ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট দুই বছর মেয়াদী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি হয়। ওই কমিটিতে শাহীনুল ইসলামকে সভাপতি ও মঞ্জুর মোর্শেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১২ সালের ১৭ জুন ওই কমিটি ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ। এর পর থেকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কোনো কমিটি নেই। ২০১৬ সালের মার্চে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ মারা যান। এরপর আর কমিটি হয়নি। শাহীনুল ইসলাম বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এখন যুবলীগের পদ পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা হলেন কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) ও অর্থমন্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলে কামরুল হাসান, কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আতিকুর রহমান খান পিন্টু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সেলিম ও বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন,

পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রুহুল কুদ্দুস, যুগ্ম আহ্বায়ক বকতার হোসেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সোহেল সামাদ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক প্রমুখ।

কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) কামরুল হাসান বলেন, ১০ বছর ধরে কোনো কমিটি নেই। কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি আহ্বায়ক অথবা সভাপতি পদ পাওয়ার চেষ্টা করবেন।

এদিকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা-ের অভিযোগে গত ২০২১ সালের ২ অক্টোবর প্রায় ১০ মাস আগে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিন মাসের জন্য কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে বাহার উদ্দিনকে আহ্বায়ক ও সারোয়ার বাবুকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৯ জনকে সদস্য করা হয়। কিন্তু ওই কমিটির বেশির ভাগ সদস্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁরা এলাকায় ছিলেন না। এ ছাড়া গত ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর রাতে হোমনা উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলা করা হয়। এ কারণেও কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেতে জোর লবিং করছে শতাধিক আগ্রহী প্রার্থীরা। সভাপতি পদে বেশ আলোচনায় রয়েছেন মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক দু’বারের সভাপতি, কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও মুরাদনগর উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ রাজিব আহমেদ ও দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্য্যান আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই মামুনুর রশীদ।

এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্র্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আল আমীন সরকার, সাবেক সভাপতি আবু কাউছার অনিক, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদ, দেবীদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক শামীম, এড. মো: এনামুল হাছান খান (রিপন), দাউদকান্দি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার, হোমনা কলেজের সাবেক ভিপি লিটন, বাঙ্গরা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ নজরুলসহ অনেকে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক বাহার উদ্দিন বাহার বলেন, বিশৃঙ্খলার কারণে কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেয়ার জন্য অনেক আগেই পদপ্রত্যাশীদের সিভি জমা নেয়া হয়েছে। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে পরবর্তীতে কবে কমিটি গঠন করা হবে তা কেন্দ্রই ভালো বলতে পারবে।

এ বিষয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ কুমিল্লার দুটি কমিটিই বিলুপ্ত করেছে। নতুন করে এই দুই কমিটি করার জন্য আমরা সিভি জমা নিয়েছি যা যাচাইবাছাই চলছে। নতুন কমিটি হলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

এছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন হওয়ার পর গত দশ বছর ধরে নগর রাজনীতি গতিশীল হওয়া সত্ত্বেও মহানগরে যুবলীগের কমিটিও গঠন হচ্ছেনা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন

সাস্ক্রাইব করে সঙ্গে থাকুন